প্রতিবাদের রাজনীতি

কয়েকজনের ফেসবুক পোস্টে একটা ছবি দেয়া আছে।
ছবিটা মোটামুটি এরকম, কয়েকজন তরুন – তরুণীর একটা মিছিলের পথরোধ করে দাঁড়িয়ে আছে এক সেনাসদস্য।

যারা দেখেননি, তাদের জন্য বলি। এটা নয়মাইলের সেই হতভাগা শিশুর রেপ এবং জানোয়ারের চেয়েও অধম অত্যাচার করে হত্যার প্রতিবাদের মিছিল ছিল।

আমি এই প্রতিবাদের পক্ষে। আমি চাই মানুষরুপী ঐ জানোয়ার (দের)
দৃস্টান্তমুলক ও দ্রুত শাস্তি দেয়া হোক। আমি চাই, দেশের কোথাও যেন নারীর সম্মান আর ধর্ষণকে নিয়ে রাজনিতি করা না হয়।

এখন আসি, কেন ঐ ছবির কথা আলাদা করে বলছি।
ঐ ছবিটা দেখিয়ে প্রচার করা হচ্ছে যে, পাহাড়ে সেনাবাহিনী প্রতিবাদ করতে দিচ্ছে না। তো বুঝেন এবার, ধর্ষণে কারা জড়িত থাকতে পারে? অথবা, এদের জন্যেই পাহাড়ে ধর্ষণ বেড়েই চলছে। কিংবা, এরা এমন একটা অন্যায়ের পক্ষে না হলে প্রতিবাদে বাঁধা দিবে কেন ? ইত্যাদি , ইত্যাদি … অথবা এই রকম বক্তব্যের কাছাকাছি, ভিন্ন ভিন্ন ভাবে লেখা।

তাই, কিছু একটা না বলে পারছি না।

এই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানের কথা বাদ দিলাম, পার্বত্য চট্রগ্রামের বিভিন্ন স্থানে কি পরিমান প্রতিবাদ হয়েছে সেটা হিসেব করা কঠিন।
কারণ সংখ্যাটা আসলেই অনেক বেশী। প্রতিদিন প্রতিবাদ হয়েছে, হচ্ছে।

অনেকেই ভালোই জানেন যে, পার্বত্য চট্রগ্রামে সমতলের চেয়ে অনেক বেশী সেনা আছে, বিভিন্ন জায়গায় কাম্প করে থাকে এরা। এরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মিছিল ছত্রভঙ্গ করেছে, এমন সংবাদ আমরা পেয়েছি। এ ধরনের সংবাদ নিয়ে আবার নতুন করে প্রতিবাদ হয়েছে, এমনও উদাহরন খুজলে পাওয়া যাবে। তাই, অবাক না হয়ে পারা যায় না এই ভেবে যে, এত কিছুর পরেও প্রতিবাদে বাঁধা দেয়ার মাত্র একটা ছবি পাওয়া গেল?

প্রতিবাদের ছবিতো অনেক দেখছি। বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন ভাবে, বিভিন্ন বয়সের মানুষ প্রতিবাদে শামিল হয়েছে। অনেক প্রতিবাদে বাঙ্গালীরাও সরব হয়েছেন। বস্তুত, কেউ অপরাধীকে আড়াল করার চেস্টা করেছেন – এমন কোন কিছু চোখে পড়েনি। সবাই, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন, এক বাক্যে। পুলিশও অতি দক্ষতার সাথে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারে সক্ষম হয়েছে।

আমি শুনেছি, এসবের মধ্যেই, কিছু প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়েছে, শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দেয়ার জন্য, চিরাচরিত চর্চা অনুসারে।
যেমন ধরেন, ৫-১০ মিনিটের একটা মিছিল হবে, পটাপট কয়েকটা ছবি তুলে, সেগুলো ফেসবুকে আপলোড করে প্রচার শুরু হয়ে যাবে। এমন প্রতিবাদের সংখ্যাও কম হয় না। প্রতিবাদের এই স্টাইলটাও খারাপ না, আমার মতে; বিশেষ করে ডিজিটাল যুগে। দিনের অন্যান্য কাজ করে, প্রতিবাদের সময় বের করা সহজ হয়, এই পন্থায়।

এই সমস্ত কিছিমের, সকল টাইপের প্রতিবাদগুলোর মধ্য থেকে যদি মাত্র একদিনের, তাও আবার শুধুমাত্র একটা প্রতিবাদের ছবি দেখিয়ে
কেউ কোন কিছু কিছু দাবী করে – তাহলে ব্যাপারটা কেমন যেন হয়ে গেল না ? নাকি , এটাই স্বাভাবিক ?

রুপক অর্থে এটুকু মনে করিয়ে দিতে দোষ নেই যে, একটা সাদা কাগজে ছোট একটা কালো বিন্দু থাকলে, সেটা সবাইকে দেখিয়ে কাগজের খুঁত বের করাটা আপাতদৃষ্টিতে হয়ত দোষের কিছু নয়। বরং, অনেকে দোষ বের করতে পারার এই যোগ্যতার কারণে নিজেকে প্রশংসিত হতে কামনা করতে পারেন।

তবে, যাদের চোখ কাগজের পুরো সাদা অংশটা বাদ দিয়ে ছোট্ট একটা কালো বিন্দুই বড় করে দেখে, তারা নিশ্চয় ব্যতিক্রমী।

তাদেরকে অভিনন্দন জানানোর অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে হার মেনেই এই পোষ্টের অবতারণা।

৫ আগস্ট ২০১৮

What do you think of this post?
  • Like (1)
  • Awesome (0)
  • Interesting (0)
  • Boring (0)
Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
1

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *