তোরা বাঙালি হইয়া যা

“তোরা বাঙালি হইয়া যা” – এই আহবানের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জ্ঞাত বাংলাদেশীর আনুমানিক সংখ্যা কি পরিমাণ কিংবা বাংলাদেশের মূল জনগোষ্ঠীর কি পরিমাণ মানুষ এই শব্দগুচ্ছের সাথে পরিচিত – সেটা জানার উপায় নেই। তবে অনেকেই ধারনা করেন যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি জনগোষ্ঠীর সিংহভাগ  অংশের  আবেগের সাথে এই আহবান ওতপ্রোতভাবে জড়িত । শুধুমাত্র আবেগের সাথে সম্পৃক্ত করলে হয়ত কমই বলা হবে – এমন বিশ্বাসী মানুষেরও দেখা মেলে। অনুমেয় যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের অনেকেই ধারনা পোষন করেন যে, এই  শব্দগুচ্ছের ব্যাপকতা ছড়িয়ে আছে তাদের অনুভূতির বাইরে আরো অনেক বেশী কিছুর সাথে। বিস্মিত হলেও উল্লেখ না করে উপায় নেই যে, কিছু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের পিছনে এই আহবানের কিছুটা হলেও ভূমিকা রয়েছে।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলীর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন অন্যতম। দুই দশকের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে পাহাড়ি আর বাঙালি মিলিয়ে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা অদ্যবধি নিরূপণ করা যায়নি। ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তি পরবর্তী সময়ে সরকারের আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গৃহীত বহুবিধ রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের পরেও  অদ্যবধি পার্বত্যাঞ্চলে কাংখিত শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়নি। এমনকি যে জাতিগত অধিকার আর স্বাতন্ত্র্য রক্ষার দোঁহাই দিয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল একটা অঞ্চলের কিছু মানুষ,  সংবিধান সংশোধন করে ‘বাংলাদেশি’ জাতীয়তাবাদের প্রবর্তন এবং তাদের জাতিসত্বা রক্ষার সাংবিধানিক রক্ষাকবচ থাকা সত্বেও আজ সেখানে তথাকথিত ‘জুম্ম জাতীয়তাবাদ’ আর ‘স্বাধীন জুম্মল্যান্ড’ এর আওয়াজ শোনা যায়। তাই সঙ্গত কারণেই কৌতুহল জাগে যে,  বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর এহেন আহবানের ভূমিকা আদতে কতটুকু ছিল।

যে মানুষটি সারা জীবন সমগ্র মানবজাতি নিয়ে ভেবেছেন, দেশের সকল মানুষের মৌলিক অধিকার পুরনের মাধ্যমে উন্নত জীবন নিশ্চিত করার চিন্তা যার মনে প্রতিনিয়তই ছিল, মানুষের দুঃখে যার মন কাঁদত, যার বিশাল হৃদয়ের ঔদার্য নিয়ে তার নিন্দুকেরা পর্যন্ত কখনো কিছু বলতে পারেনি – জাতির সেই মহান জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুখে উচ্চারিত এহেন শব্দগুচ্ছের ইপ্সিত বার্তা ও প্রেক্ষাপট এবং বাস্তবতা অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। প্রাসঙ্গিকভাবেই বঙ্গবন্ধুর এহেন উচ্চারণে প্রকাশিত অসহিষ্ণুতার  বিপরীতে উপজাতিদের অধিকার নিশ্চিত করা ও স্বার্থ রক্ষায় তিনি কতটা আন্তরিক ছিলেন তা খুঁজে বের করা তাই অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়।

মুক্তিযুদ্ধের চলাকালীন উপজাতিদের একটা বড় অংশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলেও পক্ষাবলম্বনকারীদের সিংহভাগই পাকিস্তানীদের সমর্থনে উপজাতীয় রাজাকার, মুজাহিদ বাহিনী ও সিভিল আর্মড ফোর্সে যোগদান করেছিল। বিশেষ করে চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় এবং চাকমা সম্প্রদায়ের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ভূমিকা  ছিল উল্লেখযোগ্য। ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে সাধারনভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় জনগোষ্ঠী  মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত হয়। যার পরিণতিতে, যুদ্ধপরবর্তী বাংলাদেশে উপজাতিরা কোন কোন ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের বিদ্বেষ এমনকি সহিংসতার শিকার হতে বাধ্য হয়।

বাঙালীদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির খবরাখবর জানা থাকলেও ২৫শে মার্চের বিভীষিকা প্রত্যক্ষ করার উপায় বঙ্গবন্ধুর ছিল না। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন নয়মাস পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী  থাকাকালীন স্বাভাবিকভাবেই বাংলদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলী তাঁর জানার সুযোগ ছিল না। স্বাধীনতার পরে, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। দেশে ফিরে প্রত্যক্ষ করেছিলেন বাংলাদেশের চারদিকে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা, শুনেছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ আত্নত্যাগ, ৩০ লাখ শহীদের হত্যাযজ্ঞ আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানীর করুন কাহিনী। ধ্বংস, হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণের করুন কাহিনীর পাশাপাশি জেনেছিলেন স্বাধীনতা বিরোধিদের কথা। সঙ্গতকারণেই রাজাকার, আল বদর, আল শামস, জামায়াতে ইসলামী আর শান্তি বাহিনীর স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকান্ডের পাশাপাশি উঠে এসেছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা রাজা, বোমাং রাজা আর চাকমা সম্প্রদায়ের স্বাধীনতা বিরোধী নৃশংসতার বিবরণ আর বিশ্বাসঘাতকতার সমস্ত কাহিনী।

মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ত্রিদিব রায় পাকিস্তানে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে এবং তাঁর বাংলাদেশ বিরোধী ভূমিকা অব্যাহত রাখে। উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচনে অংশ নেয়ার বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে ত্রিদিব রায়  স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী চারু বিকাশ চাকমাকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়। ( (চাকমা, ২০০৬)। মুলত চাকমা রাজার বাংলাদেশের মূল জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্বাচরন তখন থেকেই শুরু। এরপরে, তাঁর প্ররোচনায় চাকমা সমাজের একাংশের বাংলাদেশ বিরোধী ভূমিকার কারনে সমগ্র চাকমা জাতি বাংলাদেশের আপামর জনসাধারনের কাছে অবিশ্বস্ত হয়ে পড়ে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাকিস্তানী বাহিনী আত্নসমর্পণ করলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে তখনো যুদ্ধ শেষ হয়নি। বরং কিছু পাকিস্তানী সেনা, পূর্ব পাকিস্তান সিভিল আর্মড ফোর্স (EPCAF) এবং রাজাকার বাহিনী পালিয়ে এসে পার্বত্য চট্টগ্রামে আশ্রয় নিয়েছিল। এমনকি ভারতের মিজো বিচ্ছিন্নতাবাদীরাও স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকে। ( (Bhaumik, 1996), (Ahmed, 1993)। যার প্রতিফলন পাওয়া যায় মেজর জেনারেল উবান (২০০৫) এর কথায়, “আমার সৈন্যরা তখনও গোলাগুলির সম্মুখীন হচ্ছিল। মিযো, রাযাকার এবং চাকমাসহ অনেক প্যারা মিলিটারি বাহিনীর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া কিন্তু সশস্ত্র লোক পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো গেরিলা যুদ্ধের আদর্শ ভুমিতে বিচরণ করছিল।“ (উবান, ২০০৫, পৃ. ১১৭)। এহেন পরিস্থিতি মোকাবেলায় ২০ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবস্থানরত  বাংলাদেশ বিরোধী সকল উপাদানকে শক্ত হাতে দমন করার জন্যে নির্দেশ দেয়া হয়। যা বাস্তবায়নে বিমান বাহিনীর সহায়তায় বোম্বিং পর্যন্ত করা হয়েছিল। জানুয়ারি ১৯৭২ এর প্রায় শেষের দিকে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয় (Ahmed, 1993)। যদিও ১৯৭২ সালের মার্চে বান্দরবানের রুমা’তে মিজো বিদ্রোহীরা এক পুলিশ ষ্টেশন আক্রমণ করে ১১ জনকে হত্যা করে এবং অস্ত্র-গোলাবারুদ লুট করে নিয়ে যায়। (Schendel, 2015)।   ইত্যবস্রে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের নির্মূলের অভিযান  চলাকালে  মুক্তিযোদ্ধারা পার্বত্য চট্রগ্রামের বেশ কিছু স্থানে নিরীহ উপজাতিদের উপর নানাবিধ অত্যাচার ও নিপীড়ন করে।

ঠিক এই সময়কালেই, ১৯৭২ সালের ২৯ জানুয়ারিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা চারু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে ৭ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল রাস্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এবং অন্যান্য উর্ধ্বতন আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন।  বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎকালে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি জানাতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ আর পাহাড়িদের ক্ষোভের কথা জানিয়ে তাদের রক্ষার জন্যে সাংবিধানিক রক্ষাকবচের অনুরোধ করেন। নিজ ঔদার্য আর মহানুভবতার গুণে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, এই প্রতিনিধিদলকে তৎক্ষণাৎ আশ্বস্ত করেছিলেন যে,

  • পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয়দের ঐতিহ্য ও কৃষ্টি পুরোপুরিভাবে সং রক্ষণ করা হবে।
  • সরকারী চাকুরীতে উপজাতিয়দের ন্যায্য অংশ প্রদান করা হবে।
  • তাদের ভূমির অধিকার আগের মতই ভোগ করতে থাকবে। (চাকমা, ১৯৯৩)।

দেশে ফেরার মাত্র ১৮ দিনের মাথায়, এমন এক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এহেন দাবী নিয়ে এসেছিলেন যাদের রাজা এবং অন্যান্য নেতাদের ভুমিকার কারণে পুরো জনগোষ্ঠীকে ইতোমধ্যেই  সাধারণভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমন এক সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগ  উত্থাপন করা হয়েছে, যখন নব্য স্বাধীনতালব্ধ দেশের আভ্যন্তরীণ গোলযোগ তখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, বিশেষত পার্বত্য চট্টগ্রামে। সমগ্র বাংলাদেশ যখন নয় মাসের এক যুদ্ধের ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে, দেশ যখন গোলযোগ আর স্থিতিশীলতার মধ্যে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন এই প্রতিনিধিদল এসেছিল তাদের পৃথক জাতিসত্বার রক্ষাকবচের দাবীতে।

এর মাত্র দুই সপ্তাহ পরে, ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুআরিতে মং রাজা মং প্রু সাইনের নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিনিধিদল  এক স্মারকলিপি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করতে যান। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন, এম এন লারমা, বিনীতা রায়, জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, কে কে রায়, মং প্রু চাই, মং শৈ প্রু এবং সুবিমল দেওয়ান। প্রতিনিধি দলের সদস্য জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা নিশ্চিত করেছেন যে, “নির্ধারিত সময়ে তিনি জরুরী কাজে  বাইরে থাকায়, প্রতিনিধিদল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেনি। “ (চাকমা জ. ব., ১৯৯৩, p. ৫০)। তাই, ‘বাংলাদেশের ভাবি সংবিধানে উপজাতীয়দের ন্যায়সঙ্গত অধিকার সংরক্ষনের জন্যে’ এই প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি পেশ করে, যে স্মারকলিপিতে উল্লিখিত চার দফা দাবী ছিল নিম্নরূপঃ

১। পার্বত্য অঞ্চল একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হবে এবং এর নিজস্ব আইন পরিষদ থাকবে।

২। উপজাতীয় জনগণের অধিকার সংরক্ষনের জন্য ‘১৯০০ সালের পার্বত্য চট্রগ্রাম শাসনবিধি’র ন্যায় অনুরূপ সংবিধি ব্যবস্থা (Sanctuary Provision) শাসনতন্ত্রে থাকবে।

৩। উপজাতীয় রাজাদের দফত্র সংরক্ষণ করা হবে।

৪। পার্বত্য চট্রগ্রামের জনগণের মতামত যাচাই ব্যতিরেকে পার্বত্য চট্রগ্রামের বিষয় নিয়ে কোনো শাসনতান্ত্রিক সংশোধন বা পরিবর্তন যেন না হয়, এরূপ সংবিধি ব্যবস্থা শাসনতন্ত্রে থাকবে। (খীসা, ২০১৬)।

নব্য স্বাধীনতালব্ধ একটি দেশে কত ধরনের যে সমস্যা থাকতে পারে, তা জানতে আমাদের বেশী দূর যেতে হবে না। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের তৎকালীন সময়ের দিকে খেয়াল করলেই বরং বুঝতে সহজ হবে। এই রকম একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত সমস্যা-সংকুল দেশের প্রেক্ষাপটে, বঙ্গবন্ধু দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রায় এক মাসের মধ্যেই কারা এমন দাবী করেছিল? যাদেরকে পাকিস্তান আমল থেকেই সন্দেহের চোখে দেখা হত এবং যাদের একটা বড় অংশ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে বিরোধিতা করেছিল। তাই স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই দেশের এক দশমাংশ অংশের জন্যে  স্বায়ত্বশাসনের দাবী, স্বাভাবিকভাবেই অবিশ্বাসের জন্ম দেয়, বাংলাদেশের প্রতি এই জনগোষ্ঠীর আনুগত্য নিয়ে প্রশ্নের সুযোগ সৃস্টি হওয়া তাই একেবারে অস্বাভাবিক নয়।  অথচ, বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করে এই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন তাদের ভুলের জন্যে ক্ষমা চাওয়া এবং  সবাই মিলে নতুন দেশ গড়ার কাজে তাঁর হাত শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারত।

সঙ্গত কারণেই তৎকালীন সময়ের ঘটনাবলী, এবং নেতৃত্বের অদূরদর্শিতা ও ভুলের কারণে সৃষ্ট অবিশ্বস্ততাঁর ধারনা এবং পার্বত্য জনগোষ্ঠীর প্রতি বাংলাদেশের মূলজনগোষ্ঠীর সন্দেহের প্রেক্ষাপটে একজন মন্তব্য করেছিলেন,

“ দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনে শেখ মুজিব যদি আমাদের উপজাতীয় নেতাদের সেই সদস্যদের ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিতেন তা অমান্য করার স্পর্ধা কারো ছিল না। “

অথচ, বঙ্গবন্ধু নিজস্ব প্রজ্ঞা আর মহানুভবতা দিয়ে কালক্ষেপণ ব্যতিরেকেই তাদের স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপে এটা প্রমানিত হয়েছে যে, প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তিনি যথেষ্ট আন্তরিকও ছিলেন।

তথ্যসুত্রঃ

১। জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, (১৯৯৩). ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পার্বত্য স্থানীয় সরকার পরিষদ. রাঙামাটি: স্থানীয় সরকার পরিষদ, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।

২। শরদিন্দু শেখর চাকমা, (২০০৬). মুক্তিযুদ্ধে পার্বত্য চট্রগ্রাম. ঢাকা: অঙ্কুর প্রকাশনী।

৩। উৎপল খীসা, (২০১৬). ফিরে দেখা শান্তি বাহিনীর গৃহযুদ্ধ স্বপ্নের অপমৃত্যু. ঢাকা: শ্রাবণ প্রকাশনী।

৪। মেজর জেনারেল (অব.) এস এস উবান, (২০০৫). ফ্যান্টমস অব চিটাগাং- দি ফিফথ আর্মি ইন বাংলাদেশ. (হোসাইন রিদওয়ান আলী খান অনুদিত), ঢাকা: ঘাস ফুল নদী।

৫। Aftab Ahmed, (1993, November). Ethnicity and Insurgency in the Chittagong Hill Tracts Region: A Study of the Crisis of Political Integration in Bangladesh. Journal of Commonwealth & Comparative Politics, 31(3), 32-66.

৬। Subir Bhaumik, (1996). Insurgent Crossfire North-East India. New Delhi: Lancer Publishers.

৭। S Mahmud Ali, (1993), The Fearful State: Power, People and Internal War in South Asia, New Jersey, Zed Books.

৮। Willem Van Schendel, (October 2015), A War Within a War: Mizo rebels and the Bangladesh liberation struggle. Modern Asian Studies, pp.1-43.

What do you think of this post?
  • Like (0)
  • Awesome (0)
  • Interesting (0)
  • Boring (0)
Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
1

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *