আত্নউন্নয়নের প্রচেষ্টায়

আত্নউন্নয়নের নিরন্তর প্রচেষ্টায় অনলাইনে ঘাটাঘাটি করতে করতে, মনে ধরে গেলো।
তাই ভাবলাম, শেয়ার করে ফেলি – অন্য কারো হয়তো ভালো লাগতে পারে।
এ বিষয়টি নিয়ে, ইতোমধ্যেই প্রচুর লেখালেখি হয়েছে।
তাই বেশি বা সব কিছু সামনে না এনে, আমার খুব পছন্দ হয়ছে, এমন মাত্র কয়েকটি উপায় এখানে নিয়ে এসেছি।

ভোরে ঘুম থেকে উঠা
আমরা সবাই, ‘Early to bed and early to rise; makes a man healty, wealthy and wise’  প্রবাদটির সাথে পরিচিত। ভোরে উঠার উপকারিতা অনেক, যেমন – কাজ করার সময় বেশি পাওয়া যায়, সুযোগ থাকলে ব্যায়ামও করে ফেলা যায়। এমনকি, নাস্তা স্কিপ করার চান্সও কমে যায়। সবকিছু মিলিয়ে, সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে পারলে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে। জরীপে দেখা গেছে যে, অফিসের কাজ হোক বা পরিক্ষাই হোক, সকালে যারা উঠে তারা বেশি সফল হয়। সকালে উঠার সুফল সম্পর্কে গবেষকগণ আরো জানিয়েছেন যে, যারা নিয়মিত সকাল বেলায় ঘুম থেকে ওঠেন তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং মানসিকভাবে পজিটিভ থাকেন৷

তবে মনে রাখতে হবে যে, ভোরে উঠতে হলে, তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যেতে হবে।

‘ট্রিপল ফাইভ’ 
একে আপনি এক ধরনের মানসিক দক্ষতা বলতে পারেন, যা আপনাকে ভাল সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। ব্যাপারটি অনেকটা এরকম; যখনই কোন ঘটনা ঘটবে, আপনি নিজেকে তিনটি প্রশ্ন করবেনঃ

পরবর্তী ৫ মিনিটে এর প্রভাব কি হবে?
সামনের ৫ দিনে এর প্রভাব কি হবে?
আগামী ৫ বছরে এর প্রভাব কি হবে?

একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, আমাদের বেশিরভাগ সিদ্ধান্তগুলোই ৫ মিনিটের সম্ভাব্য প্রভাবের উপর ভিত্তি করে নেয়া হয়। অথচ, আমাদের সামনে আরো অনেক সময় আছে। পুরো ভবিষ্যৎ তো পড়েই রয়েছে।

দুশ্চিন্তার জন্যে বরাদ্দকৃত সময় 
অনেক ক্ষেত্রেই আমরা এমন ঘটনার সম্মুখীন হই, যা আমাদের অপছন্দের; এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমন অনেক সমস্যার ক্ষেত্রেই, হয়ত আমাদের কিছুই করার থাকে না, ক্ষতি স্বীকার করে নেয়া ছাড়া। তবে, আমি ব্যাপারটি একটু ভিন্নভাবে দেখতে চাই। প্রথমত, আমার ভুলের কারণে এটি ঘটে থাকলে, পুনরায় একই ভূল না করলেই পারি। দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, টেনশন না করা বা কোন স্ট্রেস না নেয়া। কথা হল, স্ট্রেস না নেয়ার উপায় কি আছে? আমার মতে, আছে।

আমরা নিশ্চয় জানি এবং বিশ্বাস করি যে, যা ঘটে গেছে, সেটা নিয়ে টেনশন করে আর যাই হোক, কোন কিছু চেঞ্জ হবে না। বরং, এই স্ট্রেসের কারনে সামনে আরো খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারে। তাই, মনে মনে সিদ্ধান্ত নেই যে, ইতোমধ্যে ঘটে যাওয়া অপছন্দের বিষয়টি বা দুর্ঘটনা টি নিয়ে আমি মাত্র পাঁচ মিনিট দুশ্চিন্তা করবো । এখন, আপনি ঘড়ি ধরে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত যা খুশি চিন্তা- দুশ্চিন্তা করতে থাকুন; পাঁচ মিনিট শেষ হওয়া মাত্রই, পরের বিষয় নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত করে ফেলুন। মনে রাখবেন, ডেলিবারেটলি পাঁচ মিনিট ধরে যা খুশি ভাবছেন, এর পরে এক মিনিটও নয়।

প্রতিদিন দশ মিনিট মাত্র
সকলের জীবনেই কিছু প্রিয় মানুষ আছে। কিছু মানুষ আছে যারা আমাদেরকে শর্তহীন ভাবে ভালোবাসে, তেমনি আমরাও কিছু মানুষকে শর্তহীন ভাবে ভালোবাসি, যারা আমাদের অতি আপনজন। এমন কিছু মানুষের জন্যে দিনের মাত্র দশটি মিনিট আলাদা করা থাকবে। আপনি কি ভাবতে পারেন, আপনার বাবা-মা (বিশেষত মা) প্রতিদিন আপনার একটা ফোন পেলে কত খুশী হবেন! দিনে অন্তত একবার তাদের খোঁজ-খবর নেয়া এবং কাছের কিছু বন্ধু-বান্ধব আর আত্নীয়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের জন্যে একটা মোবাইল কল করাতে হয়ত দিনের মাত্র দশটি মিনিট ব্যয় হবে। কিন্তু, এর বিনিময়ে আপনি কি একটি অন্যরকম দিন আশা করতে পারেন না? ভেবে দেখুন, এই যোগাযোগের পার্থিব এবং অপার্থিব আনন্দ একজনের জীবনে কত ব্যাপক হতে পারে!

যাই হোক, আমি আসলে পারসোনাল ডেভেলপমেন্টের কয়েকটি উপায় শেয়ার করতে চাইছিলাম। সবশেষে বলব যে, আত্ন-উন্নয়ন করতে হলে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার কমাতে হবে, যা করার সবচেয়ে সহজ উপায় হল ‘content filter’ করা। এক্ষেত্রে, সংবাদ পড়া, তথ্য প্রাপ্তি এবং শিক্ষার প্রয়োজন ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার না করাই শ্রেয়।

কে, কখ্ন, কোথায়, কার সাথে, কি করছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটা দেখা বা দেখানো দুটোই সময়ের অপচয় বলে বিবেচিত হবে কিনা সে বিষয়ে আপনি আমার সাথে দ্বিমত করতেই পারেন। তবে, এই একই সময়টুকু অন্য কোন কাজে, বিশেষ করে যা ব্যক্তিগত জীবনের উন্নতিতে সাহায্য করবে, ব্যয় করলে, নিজের আত্নউন্নয়নের কাজে নিশ্চয়ই লাগবে। পরবর্তীতে, যা কিনা আপনার সাফল্যের পথকেই মসৃণ করতে সহায়তা করবে।

ছবিঃ গুগল থেকে সংগৃহীত।

What do you think of this post?
  • Interesting (1)
  • Awesome (1)
  • Like (0)
  • Boring (0)
Like
Like Love Haha Wow Sad Angry
1

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *